বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন

কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড গোলবুনিয়া গ্রামে বেড়িবাঁধ মেরামতকে কেন্দ্র করে গাছ কাটার জন্য টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার বেলা ১১টায় এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
স্থানীয়রা জানান, বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য অনেকেই নিজেদের বাড়ির সীমানায় লাগানো গাছ সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বশির হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি গাছ কাটতে হলে তাকে টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেন। টাকা না দিলে গাছ নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। অভিযুক্ত বশির হাওলাদার চম্পাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বশির হাওলাদার নিজেকে বন বিভাগের লোক পরিচয় দিয়ে বলেন, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করতে টাকা দিতে হবে। এ অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় কৃষক ফয়সল মুন্সী, জেলে মো. মনির মল্লিক, রফিক হাওলাদার, আদম আলী শিকদার, মনির হাওলাদার, লিজা বেগম, সেতারা বেগম, শাহিনুর বেগম ও রাজমণি।
চম্পাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মাসুম বিল্লাহ বলেন, বেড়িবাঁধের ওপর গাছ কাটা সরকারের বিষয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজ হবে, এখানে কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিলন বলেন, দলের কেউ জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া সহকারী ফরেস্টার মনিরুল ইসলাম জানান, গোলবুনিয়ায় বন বিভাগের একটি বাগান রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত গাছ কাটার বিষয়ে কাউকে টাকা দিতে বা গাছ কাটতে বন বিভাগ থেকে বলা হয়নি।
কলাপাড়া বন বিভাগ কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বশির হাওলাদার নামে কাউকে তারা চেনেন না এবং তিনি বন বিভাগের কেউ নন। কেউ তাদের নাম ভাঙিয়ে টাকা চাইলে প্রমাণ সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত বশির হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বন বিভাগের লোকজন এসে জানিয়েছে যারা গাছ কাটবে তারা উপজেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে কাটবে। সে সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো টাকা চাননি বা গাছ কাটায় বাধা দেননি। রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলা হতে পারে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply